C:UsersProtapDesktopvitaminC_web-768x510.jpg

ভিটামিন

Advertisements

ভিটামিন এবং মানবদেহের পুষ্টি

ভিটামিন (Vitamins) এবং মানবদেহের পুষ্টি
জীবদেহের পুষ্টিঃ
  • প্রানীদেহের পুষ্টির বিভিন্ন ধাপ গুলি হল খাদ্য গ্রহণ, খাদ্য পরিপাক, শোষণ, আত্তীকরণ ও বহিষ্করণ। আবার উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পুষ্টির বিভিন্ন ধাপ গুলি হল সালোকসংশ্লেষ এবং আত্তীকরণ।
  • পুষ্টির এই ধাপগুলির মাধ্যমে জীবদেহে প্রয়োজনীয় শক্তি অর্জন, ক্ষয়পূরন, বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে এবং জীবনের মৌলিক ধর্মগুলি সুষ্ঠভাবে পালিত হয়।

উৎসঃ পুষ্টির মূল উৎস হল খাদ্য।

প্রকারভেদঃ পুষ্টির উপাদান বা খাদ্য দু ধরনের হয়ঃ

  • দেহ পরিপোষক খাদ্য ( Proximate principles of food )-

যে সব খাদ্য গ্রহণে জীবদেহে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং সেই শক্তির সাহায্যে জীবদেহে শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাদের দেহ পরিপোষক খাদ্য বলে।

উদাহরনঃ কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন। একে Macro Nutrients ও বলা হয়।

  • দেহ সংরক্ষক খাদ্য (Protective principles of food) –

যে সব খাদ্য দেহকে রোগ সংক্রমানের হাত থেকে রক্ষা করে তাদের দেহ সংরক্ষক খাদ্য বলে।

উদাহরনঃ ভিটামিন,খনিজলবন ও জল। একে Micro Nutrients ও বলা হয়।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য,

যে খাদ্যে পুষ্টির ছয়টি উপাদানই গুনাগুন অনুসারে উপযুক্ত পরিমানে থাকে এবং যে খাদ্য গ্রহণ করলে দেহের স্বাভাবিক কর্মশীলতার জন্য উপযুক্ত পরিমাণে শক্তি পাওয়া যায়, তাকে সুষম খাদ্য (Balanced Diet) বলে। উদাহরন – দুধ

আজ আমরা দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান – ভিটামিন নিয়ে আলোচনা করবো।

⇰  ভিটামিন কি?

যে বিশেষ জৈব পরিপোষক সাধারণ খাদ্যে অতি অল্প পরিমানে থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধক শক্তি বৃদ্ধি করে,তাকে ভিটামিন বলে।

রাসায়নিক প্রকৃতিঃ
  • ভিটামিন এক প্রকার জৈব অনুঘটক।
  • জৈব অনুঘটক কেন বলা হয়ঃ দেহপরিপোষক (কার্বোহাইড্রেট,ফ্যাট ও প্রোটিন) খাদ্য শরীরে অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান যা শক্তি উৎপন্ন করে এবং শরীরে স্বাভাবিক ক্রিয়া হয়। অপরদিকে ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ করে শরীরকে সুস্থ রাখে তাই একে জৈব অনুঘটক বলে।
শ্রেনীবিভাগঃ ভিটামিন সাধারণত দুরকমের হয়

জলে দ্রবনীয় ভিটামিনঃ এই ভিটামিন মানবদেহে জমা থাকে না৷ এগুলি প্রস্রাবের মাধ্যমে দেহের বাইরে নির্গত হয়ে যায়৷

  • যেমন- ভিটামিন B এবং C

ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন: এই ভিটামিন মানবদেহের ফ্যাট টিস্যুর মধ্যে বা লিভারেও থাকতে পারে৷

  • যেমন-ভিটামিন A, D, E এবং K
উদ্ভিদ ও প্রানীর ভিটামিন সংশ্লেষঃ
  • উদ্ভিদ নিজ দেহে ভিটামিন সংশ্লেষে সক্ষম।
  • প্রানীরা সাধারনত ভিটামিন সংশ্লেষে অক্ষম।

প্রানীদেহে সংশ্লেষিত ভিটামিনঃ

ভিটামিন D

  • সূর্যালোকের উপস্থিতিতে আমাদের দেহের ত্বকে ভিটামিন D সংশ্লেষিত হয়।
  • সূর্যালোকের অতি বেগুনী রশ্মি এবং প্রো-ভিটামিন আর্গেস্টেরল থেকে ভিটামিন D সংশ্লেষিত হয়।

ভিটামিন K

  • তিনধরনের ভিটামিন K থাকে–K1, K2 এবং K3 যা মানুষের শরীরের আভ্যন্তরীন ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরী হয়

ভিটামিন A

  • যকৃতের প্রো-ভিটামিন বিটা-ক্যারোটিন থেকে ভিটামিন A সংশ্লেষিত হয়। যাইহোক,এই বিটা-ক্যারোটিন মানুষের শরীরে তৈরী হয় না এবং ভিটামিন যুক্ত খাবার (গাজর, পালংশাক ইত্যাদি) খেলেই মানুষের শরীরে প্রবেশ করে যা পরবর্তীতে ভিটামিন A তে পরিনত হয়।
সব ভিটামিনের রাসায়নিক নাম,কাজ,উৎস এবং অভাবে কি হয়
ভিটামিন A
  • রাসায়নিক নামঃ রেটিনল, রেটিনাল বা রেটিনয়িক অ্যাসিড
  • কাজঃ– দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখে ৷
  • উৎসঃ- মাংশাষী প্রাণীর (যেমন কড, হ্যলিবাট, হাঙর ইত্যাদি মাছের যকৃৎ), ডিমের কুসুম, মাখন, দুধ, মাছ, মাংস, গাজর, কুমড়ো, পাকা পেঁপে, পালংশাক, টমেটো।
  • অসুখঃ- ভিটামিন A-র অভাবে রাত কানা রোগ, ক্যারাটো ম্যালেশিয়া এবং ড্রাই কর্নিয়া হয়৷
ভিটামিন 1
ভিটামিন B

কাজঃ– দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি,রক্তকোষ গঠন,মিউকাস পর্দা সুস্থ রাখা, নার্ভ ঠিক রাখা, রক্ত উৎপাদনে সহায়তা করা ইত্যাদি।

উৎসঃ-মাছ, মাংস, কলা দুধ, দই, বিনস, বাদাম, মাশরুম, সূর্যমূখী দানা, শাকপাতা, গাজর।

অসুখঃ-

B1-বেরি বেরি রোগ,

B2-মুখে ঘা বা স্ট্রোমাটাইটিস,

B5-পেলেগ্রা,

B12– রক্তাল্পতা

বিভিন্ন ভিটামিন- B এর রাসায়নিক নামঃ

বি 1 – থিয়ামিন

বি 2 – রাইবোফ্লেভিন

বি 3– নিয়াসিন

বি 5– প্যান্টোথেনিক এসিড

বি 6– পাইরিডক্সিন

বি 7– বায়োটিন

বি 9-ফলিক এসিড

বি 12– সিয়ানোকোবালামিন

C:UsersProtapDesktopvitaminB_web-768x509.jpg
ভিটামিন C

রাসায়নিক নামঃ অ্যাসকরবিক এসিড

কাজঃ-রড কোষ গঠন, রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি, দাতের মাড়ি শুস্থ রাখা

উৎস- লেবু, সবুজ শাক-সবজি, গোলমরিচ, ব্রকোলি, টক জাতীয় ফল, টমেটো,

শুঁটি জাতীয় সবজি৷

অসুখ- দাঁতে স্কার্ভি রোগ হয়৷

C:UsersProtapDesktopvitaminC_web-768x510.jpg
ভিটামিন D

রাসায়নিক নামঃ ক্যালসিফেরোল

কাজঃ-মানবদেহের হাড় তৈরিতে সাহায্য করা এবং ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস

বিপাক নিয়ন্ত্রন করা৷

উৎস- ভিটামিন D-র মূল উৎস হল সূর্যরশ্মি। এছাড়া, তৈলাক্ত মাছ, ডিম, মাশরুম, দুধ, কর্ড লিভার তেল, কমলালেবু ইত্যাদি তে ভিটামিন D পাওয়া যায়।

অসুখ- এর অভাবে বাচ্চাদের রিকেট রোগ হয়। এছাড়া প্রেগন্যান্সির সময় হবু মা

অস্টিওম্যালেশিয়া বা হাড় ভঙ্গুর হওয়ার রোগে ভোগেন৷

C:UsersProtapDesktopvitaminD_web-768x500.jpg
ভিটামিন E
  • রাসায়নিক নামঃ টোকোফেরল
  • কাজঃ– স্তন দুগ্ধ ক্ষরন, বন্ধাত্ব প্রতিরোধ, ভ্রুনের বৃদ্ধি
  • উৎস- আমন্ড, দুধ, ডিম, অ্যাভোগাডো, বাদাম, সবুজ শাকপাতা, গম, ভেজিটেবিল অয়েল ইত্যাদি।
  • অসুখ- স্তন দুগ্ধ ক্ষরন হ্রাস, বন্ধাত্ব
C:UsersProtapDesktopvitaminEweb-768x511.jpg
ভিটামিন K:
  • রাসায়নিক নামঃ ন্যাপথোকুইনোন
  • কাজঃ– রক্ত তঞ্চনে বা জমাট বাধতে সহায়তা করে৷
  • উৎস- সবুজ শাক-সবজি,টমেটো, বাধাকপি, শুকরের যকৃত নিসৃত তেল ইত্যাদি৷
  • অসুখ- রক্ত তঞ্চন ব্যাহত যার ফলে রক্ত ক্ষরন বৃদ্ধি পায়।
C:UsersProtapDesktopvitaminK_web-768x512.jpg
অ্যান্টিভিটামিন ( Antivitamin ) – যে সব পদার্থ ভিটামিনের অনুরূপে রাসায়নিক শ্রেণীভুক্ত হয়েও ভিটামিনের কার্যকারিতা হ্রাস করে বা ভিটামিনের ক্রিয়া বিনষ্ট করে, তাদের অ্যান্টিভিটামিন বলে।
  • থিয়ামিন (B1) এর অ্যান্টিভিটামিন হলঃ পাইরিথিয়ামিন।
  • বায়োটিনের (B7) এর অ্যান্টিভিটামিন হলঃ অ্যাভিডিন।
প্রোভিটামিন ( Provitamin ) – যে সব পদার্থ থেকে ভিটামিন সংশ্লেষিত হয় তাদেরকে প্রোভিটামিন বলে।
  • আর্গোস্টেরল হল ভিটামিন D এর প্রোভিটামিন।
  • ক্যারোটিন হল ভিটামিন A এর প্রোভিটামিন।
সিউডোভিটামিন ( Psedovitamin ) – যে সব জৈব যৌগের গঠন ভিটামিনের মত কিন্তু ভিটামিনের গুন সম্মত নয়, তাদের  সিউডোভিটামিন বলে।
  • মিথাইলকোবালামিডন ভিটামিন B-12 এর সিউডোভিটামিন ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + 11 =

error:
Scroll to Top