Political Disturbance in Jammu & Kashmir

Advertisements

Special Topic – Political Disturbance in Jammu & Kashmir

Topic Discussed – Political Disturbance in Jammu & Kashmir – Sahajpath Classes

আমরা জানি, ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে জম্মু ও কাশ্মীর এ চলা রাজ্যপাল শাসনের (Governor’s Rule) শেষে গত 22.11.2018 তে বিধানসভা ভেঙে দেন রাজ্যপাল সত্য পাল মালিক। সম্প্রতি Governor’s Rule এর 6 মাস শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে 20.12.2018 থেকে জম্মু ও কাশ্মীর এ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলো। ভারতীয় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্তে এই সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রে সাক্ষর করলেন।

আজ আমরা জানতে পারবো জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কে, সেখানকার রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্পর্কে, বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে।

এই টপিক এর প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রথমে জেনে নেওয়া দরকার জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কে-

ভারতের উত্তর দিকে অবস্থিত একটি রাজ্য হল জম্মু ও কাশ্মীর। এই প্রসঙ্গে ম্যাপ এ আমরা দেখে নেবো এর আন্তর্জাতিক রূপরেখা।

Political Disturbance in Jammu & Kashmir 1

  • প্রতিবেশী রাজ্য – মোট ২ টি রাজ্যের সীমানার সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর এর সীমানা স্পর্শ করেছে। এগুলি হল পাঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশ।
  • ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এর সংযোজন – ২৬ এ অক্টোবর, ১৯৪৭
  • মোট জেলা – ২২
  • রাজধানী – শ্রীনগর (গ্রীষ্মকালীন) এবং জম্মু (শীতকালীন)
  • বৃহত্তম শহর – শ্রীনগর
  • অন্যান্য শহর – Jammu, Srinagar, Leh Ladakh, Gulmarg, Sonamarg Pahalgam ইত্যাদি।
  • মুখ্যমন্ত্রী – Vacant (আমাদের আজকের ইস্যু এটা নিয়েই। আমরা বিস্তারিত ভাবে জানবো এর পেছনের ইতিহাস)
  • রাজ্যপাল – সত্য পাল মালিক (Satya Pal Malik), তিনি আগস্ট, ২০১৮ থেকে জম্মু ও কাশ্মীর এর রাজ্যপাল পদে আছেন।
  • Lok Sabha Constituency – ৬
  • Rajyo Sabha Constituency – ৪
  • Legislature type – Bicameral (দুই কক্ষ বিশিষ্ট)
  • Legislative Assembly (বিধান সভা) – ৮৭
  • Legislative Council(বিধান পরিষদ) – ৩৬
  • High Court – Jammu and Kashmir High Court
  • Official Language – উর্দু
  • অন্যান্য ভাষা – কাশ্মিরি, হিন্দী, ডোগরি, পাঞ্জাবি
  • ConstitutionConstitution of Jammu and Kashmir

প্রধান রাজনৈতিক দল –

  • Jammu and Kashmir Peoples Democratic Party (PDP)
  • Bharatiya Janata Party
  • Jammu & Kashmir National Conference (NC)
  • Indian National Congress (Congress)

ঘটনাক্রম-

এখন আমরা জেনে নেবো, জম্মু ও কাশ্মীর এর রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনের কারণ গুলি সম্পর্কে।

  • আমরা উপরে দেখেছি জম্মু ও কাশ্মীর এর বিধানসভার সদস্যসংখ্যা ৮৭। ২০১৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সীট পরিসংখ্যান ছিল এরকম –C:\Users\user\Desktop\Image 003.jpg
  • আর সরকার গড়তে দরকার ৪৪ টি আসন। যেহেতু কোনো দল ই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় নি, তাই বিজেপি(২৫) এবং Peoples Democratic Party  (২৮) জোট বেধে মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বে তখন সরকার গড়ে।
  • কিন্তু ২০১৮ সালের জুন মাসে বিজেপি, সরকার থেকে তার সমর্থন তুলে নিলে মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বাধীন সরকার ভেঙে যায়। জম্মু ও কাশ্মীর এর তত্কালীন রাজ্যপাল এন এন ভহরা রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ কে কেন্দ্রীয় শাসনের জন্যে আবেদন জানালে পরবর্তি ৬ মাসের জন্যে রাজ্যে জারি হয় কেন্দ্রীয় শাসন (Governor’s rule)। এই কেন্দ্রীয় শাসন জারি করা হয় জম্মু ও কাশ্মীর এর সংবিধান এর Section 92 (1) এর ধারা অনুসরণ করে।
  • এই নিয়ে এটা জম্মু ও কাশ্মীর এ মোট ৮ বার কেন্দ্রীয় শাসন (Governor’s rule) জারি হয়েছে।
  • এই সময়ে State Assembly অর্থাত্‍ বিধানসভা কে স্থগিত রাখা হয় (suspended) যাতে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলি মিলিত ভাবে সরকার গড়তে পারে।
  • কিন্তু National Conference এবং Peoples Democratic Party র রাজনৈতিক বিরোধিতার কারনে সেই সময়ে একজোট হয়ে সরকার গড়তে নারাজ থাকে এবং বর্তমান রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শাসন (Governor’s rule) জারি থাকে।
  • অপরদিকে, বিজেপি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট বেধে সরকার গড়ার জন্যে নানা ভাবে চেষ্টা করতে থাকে। আগামী ১৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
  • সম্প্রতি, জম্মু-কাশ্মীরে বিজেপি’কে ঠেকাতে ও সরকার নিজেদের হাতে রাখতে মিলিত হয় দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল পিডিপি এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)। অতীতের যাবতীয় তিক্ততা ভুলে রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য পরস্পরের হাত ধরতে তৈরি তারা। এ ক্ষেত্রে কংগ্রসও যোগ দেয় তাদের সঙ্গে।
  • ৮৭ আসনের জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় পিডিপি’র ২৮ জন সদস্য আছে। আর কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ১২। আর ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিধায়ক আছেন ১৫ জন।
  • অবশেষে, রাজ্যে সরকার গঠনের দাবি জানিয়ে রাজ্যপালকে চিঠি পাঠান পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি। সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁর পক্ষে আছে বলে চিঠিতে দাবি করেন তিনি। পরে ট্যুইট করে পিডিপি নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফ্যাক্সের মাধ্যমে তিনি চিঠি পাঠানোর চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। এমনকী রাজ্যপালকে ফোন করলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
  • অন্য দিকে Peoples Conference দলের নেতা Sajad Lone বিজেপির সঙ্গে জোট বেধে সরকার গড়ার জন্যে দাবি করে।
  • কিন্তু এর মধ্যে রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা ভেঙে দেন (dissolved the State Assembly) যা এতদিন suspended অবস্থায় ছিল । তিনি 22.11.2018 তারিখে জম্মু ও কাশ্মীর এর সংবিধান এর clause (b) of subsection (2) of Section 53 এর ধারা অনুসরণ করে বিধানসভা ভেঙে দেন।
  • অর্থাত্‍ এখন এই রাজ্যে সরকার গড়তে গেলে নতুন করে নির্বাচন করতে হবে।

রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হিসাবে যেগুলি চিহ্নিত করেছেন সেগুলি হলো –

  • extensive horse trading – অর্থাত্‍ বিভিন্ন বিধায়ককে ভয় দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে বা অন্য মাধ্যমে নিজেদের সঙ্গে করার চেষ্টা
  • বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মত পার্থক্য নিয়ে একসঙ্গে সরকার গড়লে তা স্থায়ী হবে না
  • তাছাড়া কোনো জোট গড়ার কোনো প্রমাণ বা কমপক্ষে ৪৪ জনের সংখ্যা গরিষ্ঠতার কোনো লিস্ট তিনি হাতে পান নি

Governor’s Rule এর 6 মাস শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে 20.12.2018 থেকে জম্মু ও কাশ্মীর এ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলো। ভারতীয় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সম্প্রতি এই সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রে সাক্ষর করলেন।

এক নজরে Jammu ও Kashmir এর সংবিধান এর 92 নম্বর ধারা  –

  •  রাষ্ট্রীয় সংকট পরিস্থিতিতে 6 মাসের জন্য রাজ্য গভর্নর শাসনের অধীনে থাকবে।
  • গভর্নরকে ছয় মাস পর আইন পরিষদ ভেঙে দিতে হবে, যার পরে 6 মাস রাষ্ট্রপতির শাসনে জারি হবে।
  • রাষ্ট্রপতি শাসন শেষে রাজ্যটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
  • যদিও রাষ্ট্রপতির শাসন আরো ছয় মাস বাড়ানো যেতে পারে।
  • ভারতের নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ বাদে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনও রাষ্ট্রপতির ঘোষণাপত্র কার্যকর থাকবে না।
  • ভারতীয় সংবিধান অনুসারে, 356 ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − two =

error:
Scroll to Top