Kartarpur Corridor

Advertisements

Special Topic – Kartarpur Corridor

Topic Discussed – Kartarpur Corridor – Sahajpath Classes

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ‘ধর্মীয় করিডর’ অর্থাৎ ‘কারতারপুর করিডর’ তৈরিতে সায় দিল কেন্দ্র সরকার। সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে এই সংক্রান্ত বিলটি পাস হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়।

কিন্তু কি এই কারতারপুর করিডর আর ধর্মীয় ও আন্তর্জাতিক দিক দিয়ে ভারত এবং পাকিস্তানের কাছে এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, আজ আমরা বিস্তারিত ভাবে জানতে পারবো।

এই প্রসঙ্গে প্রথমে সংক্ষেপে পাকিস্তান সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়া যাক –

C:\Users\user\Desktop\Pakistan in MAP.png

    • রাজধানী – ইসলামাবাদ
    • বৃহত্তম শহর -করাচি
    • সরকার স্বীকৃত রাষ্ট্র ভাষা – উর্দু
    • রাষ্ট্রপতি – আরিফ আলভি
    • প্রধানমন্ত্রী – ইমরান খান
    • মুদ্রা – পাকিস্তানি রুপি
    • স্বাধীনতা লাভ – ১৪ই আগস্ট
  • প্রতিরক্ষামন্ত্রী – পারভেজ খাত্তাক

প্রথমেই জেনে নেবো কারতারপুর সাহিব ও দেরা বাবা নানক সাহিব এর অবস্থান সম্পর্কে –

পাকিস্তানের লাহোর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে পঞ্জাব রাজ্যের নানকানা সাহিব শহরে ইরাবতী নদীর (Ravi River) তীরে কারতারপুরে ঐতিহাসিক গুরুদ্বারা দরবার সাহিব অবস্থিত। এখানে শিখ ধর্মের প্রবক্তা শিখ গুরু, গুরু নানক তার শেষ ১৮টি বছর কাটান । তাঁর সমাধিও রয়েছে সেখানে। প্রতিবছর পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে শিখ ধর্মের মানুষ এই তীর্থস্থানে যান।

অপরদিকে ঐতিহাসিক গুরুদ্বারা দরবার সাহিব এর মতোই ভারতের পঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলার রয়েছে ডেরা বাবা নানক সাহিব। এই দুই তীর্থস্থান এর মধ্যে দূরত্ব মাত্র ৪ কিমি। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তান সীমানা দুই দেশের শিখ ধর্মের মানুষকে এই দুই তীর্থস্থান থেকে আলাদা করে রেখেছে। C:\Users\user\Desktop\Kartarpur Isssue.jpg

এই দূরত্ব ঘোচানোর জন্যেই ভারত ও পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাই এবং বেনজির ভূটো কারতারপুর সাহিব ও দেরা বাবা নানক সাহিব এর মধ্যে একটি করিডর গড়ার পক্ষে সওয়াল করেন। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য নানা সময়ে তা সম্ভব হয় নি।

প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে যান তীর্থ ভ্রমণে। আগামী বছর নানকের জন্মের ৫৫০ বছর পূর্তি। তাই এর আগেই এই করিডোর দুই দেশের মধ্যে একটা ভাল সম্পর্ক গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

ভারত সরকারের তরফ থেকে পঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলার ডেরা বাবা নানক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার বিস্তৃত করিডরটি তৈরি করা হবে। যার নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ করবে সরকারই এবং এই করিডোর এ কোনও ভিসা লাগবে না দর্শনার্থীদের। আগামী ৪ মাসের মধ্যে এই করিডোর টি তৈরি হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে ইসলামাবাদকেও আর্জি জানানো হয়েছে, যাতে তাঁদের তরফেও সীমান্ত থেকে গুরুদ্বার পর্যন্ত একই রকম একটি করিডর গড়ে তোলা হয় এবং যাতে সেখানে গিয়ে অসুবিধায় পড়তে না হয় ভারতীয় দর্শনার্থীদের।

সীমান্ত পেরিয়ে যাঁরা পাকিস্তান যেতে পারবেন না, তাঁদের জন্য বিশেষ টেলিস্কোপিক পয়েন্ট থাকবে। সেখানে দাঁড়িয়েই গুরুদ্বারের দর্শন পেতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

ভারতের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ এই করিডোরের সূচনা করলেন এবং অপরদিকে পাকিস্তানের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সূচনা করবেন আগামী ২৮ তারিখ এ।

বলা ই বাহুল্য, যখন ২৬/১১ এর ক্ষত ১০ বছর পেরিয়েও সারে নি, ভারত-পাকিস্তান এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক এবং সীমান্ত সম্পর্ক যেখানে সেরকম ভালো নয়, সেই দিক দিয়ে দুই দেশের মধ্যে শান্তি রক্ষায় ও প্রতিষ্ঠায় এই করিডোর এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + twenty =

error:
Scroll to Top