ISRO

Advertisements

ISRO

ISRO (Indian Space Research Organization )

  • ইসরো– Indian Space Research Organization
  • প্রতিষ্ঠাঃ আগস্ট ১৫, ১৯৬৯ সাল।
  • সদরদপ্তরঃ বেঙ্গালুরু, ভারত
  • বিশ্বের বৃহত্তম মহাকাশ সংস্থাগুলির মধ্যে ইসরোর স্থান ষষ্ঠ।
  • Motto – মানবজাতির সেবায় মহাকাশ প্রযুক্তিবিদ্যা (Space technology in the Service of humankind)
  • চেয়ারম্যানঃ ডাঃ কালিসাভাদিভু শিভন (Dr Kailasavadivoo Sivan)। তিনি এর আগে Vikram Sarabhai Space Center, তিরুবনন্তপুরম এবং Liquid Propulsion centre এ ডিরেক্টর ছিলেন।
  • ১৯৬২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং ডঃ বিক্রম সারাভাই এর প্রচেষ্টায় ভারতে Indian National Committee for Space Research (INCOSPAR) নামে একটা কমিটি গঠন করা হয়।
    • উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশ সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষনা ও ভারতীয় কার্যকলাপে ভারতের অংশগ্রহন বাড়ানো
    • INCOSPAR এর প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন ডঃ বিক্রম সারাভাই।
    • মহাকাশ গবেষনায় তার অবদানের জন্যে তাকে ভারতের মহাকাশ গবেষনার জনক বলা হয়।
    • INCOSPAR প্রথমে Department of Atomic Energy এর অন্তর্গত ছিল।
    • তারপর ১৯৬৯ সালে ইসরো গঠন করা হলে INCOSPAR এর অবলুপ্তি ঘটে।
    • ১৯৭২ সালে Department of Space এবং Space Commission প্রতিষ্ঠা করা হলে ইসরো কে Department of Space এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  • মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণ এর জন্যে থুম্বা রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (Thumba Equatorial Rocket Launching Station) কেরালার তিরুবনন্তপুরম এ থুম্বা তে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
    • রকেট উৎক্ষেপন কেন্দ্র হিসাবে থুম্বা কে বাছার কারন ভূচৌম্বকীয় নিরক্ষরেখা থুম্বা এর উপর দিয়ে গেছে।
  • মহাকাশ নিয়ে কার্যকলাপের ও গবেষনার গুরুত্ব ভারত ১৯৬০ এর দশকেই বুঝতে পেরেছিল যখন নাসা তৈরী কৃত্রিম উপগ্রহ ‘সিঙ্কোম-৩’টোকিও তে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকের (১৯৬৪) সরাসরি টেলিভিশন সম্প্রচার করে।
  • ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ হল ‘আর্যভট্ট’।
    • ইসরো দ্বারা তৈরী এই কৃত্রিম উপগ্রহ সোভিয়েত রাশিয়ার সহায়তায় ১৯৭৫ সালের ১৯এ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয় রাশিয়ার কসমস রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে।
    • উল্লেখ্য ভারতের বিখ্যাত অংকবিদ ‘আর্যভট্ট’ এর নামানুসারে এই কৃত্রিম উপগ্রহটির নামকরন করা হয়েছে।
    • মহাকাশবিদ্যা সংক্রান্ত গবেষণার কাজ চালানোর জন্য এই উপগ্রহটি নির্মাণ করা হয়।
    • কৃত্রিম উপগ্রহ হলো মহাকাশে উতক্ষেপিত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তৈরী উপগ্রহ।
    • স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার খবর পাওয়া যায়।

Image result for geo meo leo উপগ্রহের কক্ষপথঃ

  • উপগ্রহের কক্ষপথঃ
    • Low Earth Orbit (LEO): ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬০ থেকে ২০০০ কিমির মধ্যে এই কক্ষপথ থাকে। এই কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ উপস্থাপন করতে গেলে সবথেকে কম শক্তির প্রয়োজন হয়। উল্লেখ্য, International Space Station এবং আমেরিকার Hubble Telescope এই কক্ষপথে আছে
    • Medium Earth Orbit (MEO): ২০০০ কিমি থেকে ৩৫৭৮৬ কিমির মধ্যে এই কক্ষপথের বিস্তৃতি। এই কক্ষপথে সাধারনত নেভিগেশয়ান ও যোগাযোগ এর জন্যে ব্যাবহৃত হয়। প্রদক্ষিন সময় – ১২ ঘন্টা।
    • Geo Synchronous Orbit / Geo Stationary Orbit (GSO): ৩৫৭৮৬ কিমির উপরে এই কক্ষপথের বিস্তৃতি। প্রদক্ষিন সময় – ২৪ ঘন্টা।
    • IRNSS – NAVIK – ভারতের নেভিগেশান সিস্টেম এ ব্যাবহৃত ৩ টি কৃত্রিম উপগ্রহ Geostationary Orbit এবং ৪ টি কৃত্রিম উপগ্রহ Geosynchronous orbit এ আছে।

বিভিন্ন দেশ এর মহাকাশ গবেষনা সংস্থা দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন নেভিগেশান সিস্টেম গুলি হল –

  • GPS (Global Positioning System ) – আমেরিকার নেভিগেশান সিস্টেম
  • GLONASS (Global Navigation Satellite System) – রাশিয়ান ফেডারেশান এর নেভিগেশান সিস্টেম
  • GALILIO – ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর নেভিগেশান সিস্টেম
  • COMPASS – চীনের নেভিগেশান সিস্টেম
  • IRNSS – NAVIK – ভারতের নেভিগেশান সিস্টেম। (Indian Regional Navigation Satellite System)

রিমোট সেন্সিং – যখন কোন বস্তু বা কিছুর সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ ছাড়াই এবং পর্যবেক্ষন দ্বারাই তার সম্পর্কে নানা তথ্য যোগাড় করা হয় তখন সেই ধরনের সেন্সিংকে রিমোট সেন্সিং বলে।

  • রিমোট সেন্সিং কৃত্রিম উপগ্রহ গুলি তার কক্ষপথে থেকে পৃথিবীপৃষ্ঠের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পৃথিবীর নানা প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পর্কে তথ্য সরাবরাহ করে। নিচের ছবিটি দেখলে আরো ভালো বোঝা যাবে-

Image result for remote sensing

  • SLV – Satellite Launch Vehicle- প্রথম লঞ্চ ভেইকেল যা ৪০ কেজি পর্যন্ত মহাকাশে নিয়ে যেতে পারে।
  • ASLV – Augmented Satellite Launch Vehicle –ইসরোর দ্বিতীয় উৎক্ষেপন যান যা ১৫০ কেজি পর্যন্ত মহাকাশে নিয়ে যেতে পারে।
  • PSLV – Polar Satellite Launch Vehicle – low earth orbit বা sun synchronous orbit এ কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর জন্য এই উৎক্ষেপন যান ব্যাবহৃত হয়। সাধারনত পৃথিবী পর্যবেক্ষন ও রিমোট সেন্সিং উপগ্রহ পাঠাতে এই উৎক্ষেপন যান ব্যাবহার করা হয়। এটি ১৭৫০ কেজি পর্যন্ত ভার নিয়ে ৬০০ থেকে ৯০০ কিমি পর্যন্ত মহাকাশে নিয়ে যেতে পারে। এর সাফল্যের জন্য একে সবথেকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করা হয় । ইসরো পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেইকেল দিয়ে চন্দ্রযান – ১, চন্দ্রযান – ২, মঙ্গলযান (Mars Orbit Mission) মহাকাশে পাঠিয়েছে। পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেইকেল অনেক সস্তা যা গোটা বিশ্বের কাছে আগ্রহের বিষয়।
  • Sun Synchronous Orbit – যখন পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে যে কক্ষপথে রাখা উপগ্রহের সঙ্গে একটা রেখা দিয়ে যোগ করলে যে কোন করে সেই কোন যদি সবসময় একই থাকে তখন সেই orbit কে sun synchronous orbit বলে।
  • GSLV – Geo Synchronous Launch Vehicle/ Geo Stationary Launch Vehicle: Geo Synchronous Orbit বা Geo Stationary orbit এ উপগ্রহ পাঠাতে এই উৎক্ষেপন যানটি ব্যাবহার করা হয়। সাধারনত যোগাযোগ সংক্রান্ত উপগ্রহ পাঠানো হয়। এই উপগ্রহ গুলির একটা বৈশিষ্ট হল – এগুলো তাদের কক্ষপথে সবসময় এক জায়গা তে আছে বলে মনে হয় যদি পৃথিবীপৃষ্ঠের কোন জায়গা থেকে দেখা হয়। এগুলির প্রদক্ষিন সময় ২৪ ঘন্টা বলে পৃথিবীর সঙ্গে সঙ্গে নিজের কক্ষপথে প্রদক্ষিন করে। ইসরো এখনো পর্যন্ত GSLV Mark-II এবং GSLV Mark-III উৎক্ষেপন যান তৈরী করেছে যা যথাক্রমে ৫০০০ কেজি ও ৮০০০ কেজি উপগ্রহ low earth orbit এ স্থাপন করতে পারে।

এক নজরে ইসরোর সাফল্যঃ

  • ১৯৭৫ সালে ভারতের অন্যতম সেরা জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্টের নামে প্রথম উপগ্রহ তৈরি হয়
  • পৃথিবী কে পর্যবেক্ষন এর জন্য ইসরো দ্বারা তৈরী ‘ভাস্কর’ উপগ্রহটি ১৯৭৯ সালের ৭ই জুন এ উৎক্ষেপন করা হয়।
  • INSAT নামে জনপ্রিয় ৯টি উপগ্রহকে ১৯৮৩ সালে মহাকাশে পাঠানো হয়। তথ্য ও সম্প্রচার ব্যবস্থাকে দক্ষিণ এশিয়ায় মজবুত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছিল।
  • ১৯৯৩ সাল থেকে পিএসএলভি বা পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল ১৯টি ভিন্ন দেশের ৪০ উপগ্রহকে সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে।
  • ২০০৮ সালে চন্দ্রের কক্ষপথে মহাকাশ যান পাঠায় ভারত। এর ফলে ষষ্ঠ দেশ হিসাবে এই এলিট প্যানেলে জায়গা করে নেয় ইসরো।
  • প্রথমবারের চেষ্টায় ২০১৪ সালে মঙ্গলে মহাকাশ যান পাঠিয়ে রেকর্ড । এর আগে আর কোনও দেশ করতে পারেনি।
  • IRNS: এটি নাভিক (NAVIK) নামে পরিচিত। ২০১৬ সালে ইসরো তৈরি করে ভারতের নিজের স্যাটেলাইট নেভিগেশন মিশন সিস্টেম। যা সমুদ্রে দিক নির্ণয়ে বিশেষ সহায়ক হবে। ফলে বিপর্যয় মোকাবিলা ও জাহাজ হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাকে সহজেই মোকাবিলা করা সহজ হবে।
  • ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে একসাথে ১০৪টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে যার মধ্যে ৩ টি ভারতীয় এবং বাকি সব বিদেশি। উল্লেখ্য, ৯৬ টি আমেরিকার উপগ্রহ।
  • জিএলএসভি-এমকে৩, ২০১৭ সালের জুন মাসে ইসরো সফলভাবে জিএলএসভি-এমকে৩ পরীক্ষা করেছে। ফলে ২০২০ সালের মধ্যে মহাকাশে মানুষ পাঠাতে পারে এমন দেশগুলির তালিকায় নিজের নাম ভারত নথিভুক্ত করতে পেরেছে।

ভারতের বিভিন্ন মহাকাশ কেন্দ্র এবং তাদের কাজ

নাম কোথায় অবস্থিত কাজ কি
সতীশ ধবন মহাকাশ কেন্দ্র শ্রীহরিকোটায়, অন্ধ্রপ্রদেশ রকেট উৎক্ষেপণ
বিক্রম সারাভাই মহাকাশ কেন্দ্র তিরুবনন্তপুরম, কেরালা রকেট উৎক্ষেপণ
স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার আহমেদাবাদ রিমোট সেন্সিং / টেলিকমিউনিকেশন
ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার হায়দ্রাবাদ রিমোট সেন্সিং

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five − four =

error:
Scroll to Top