CBI vs STATES

Advertisements

Special Topic – CBI vs STATES

Topic Discussed – CBI vs STATES – Withdrawal of General Consent

অন্ধ্রপ্রদেশের পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সংশ্লিষ্ট রাজ্যে কর্মরত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে সিবিআই দ্বারা তদন্ত করার ‘সাধারণ সম্মতি’ প্রত্যাহার করে নিল। অর্থাত্‍ এখন এই দুই রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই সাধারন ভাবে তদন্ত করতে পারবে না। প্রতিটা তদন্তের জন্যে আলাদা করে অনুমতি নিতে হবে।

এখন জেনে নেওয়া যাক কী এই ‘সাধারণ সম্মতি’ (General Consent)?

  • দিল্লি স্পেশ্যাল পুলিশ এস্ট্যাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী ১৯৪১ সালে সিবিআই গঠিত হয়েছে। সিবিআই হলো একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা যার কাছে পুলিশের ক্ষমতা রয়েছে। এর প্রাথমিক কার্যের ব্যাপ্তি দিল্লি এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল গুলিতে রয়েছে।
  • এর মূল উদ্দেশ্য, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা বা তার কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করা। তবে সিবিআই-কে কোনও রাজ্যে কর্মরত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলে বা রাজ্যে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও দফতরে তল্লাশি চালাতে গেলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হয়।
  • CBI কে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অপরাধ এবং ষড়যন্ত্র বিষয়ক এই তদন্ত করার জন্যে সাধারন সম্মতি দেওয়া হয়। প্রায় সব রাজ্যই একটি আগাম সম্মতি দিয়ে রাখে। এই ধরনের সাধারণ সম্মতি ৬ মাস থেকে ১ বছরের জন্য বৈধ থাকে। আবার বৈধতা হারালে আবার সাধারন সম্মতি নিয়ে নেওয়া হয় পরবর্তি ৬ মাস থেকে ১ বছরের জন্য। যার ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রে আর আলাদা করে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

সাধারণত দু’ধরনের সম্মতি রয়েছে –

  • একটি হল কোনো বিশেষ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ ভাবে সম্মতি।
  • দ্বিতীয়টি হল সাধারণ সম্মতি।

রাজ্যের কোনও মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত করতে হলে সিবিআই-এর রাজ্য সরকারের সম্মতির দরকার হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সিবিআই যাতে স্বাধীনভাবে তদন্ত চালাতে পারে, সেই কারণে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের তরফ থেকে সাধারণ সম্মতি দেওয়া হয়। সাধারণত এই সম্মতি দিয়ে দেয় সব রাজ্যই। সাধারণ সম্মতি না দেওয়া হলে প্রতিটি তদন্তের ক্ষেত্রে আলাদা করে রাজ্যের সম্মতি দরকার হয়।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, পশ্চিম রেলের অধীনে কাজ করা মুম্বই-এর এক কর্মীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করতে হলে সিবিআই কে আগে মহারাষ্ট্র সরকারের সম্মতি নিতে হবে।

সম্মতি প্রত্যাহারের অর্থ কী?

  • এর অর্থ হল অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে কোনো সরকারি কর্মচারী অথবা বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত কারোর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের সম্মতি ছাড়া মামলা নথিভুক্ত করতে পারবে না সিবিআই। অর্থাৎ সিবিআই রাজ্যে মামলা ভিত্তিক তদন্ত ততক্ষণ পর্যন্ত করতে পারবে না যতক্ষণ না রাজ্য সরকার সংশ্লিষ্ট মামলায় তদন্ত করতে ক্ষমতা দিচ্ছে।

পুরোনো মামলার ক্ষেত্রে কি আবার অনুমতি নিতে হবে? আর নতুন মামলার ক্ষেত্রেই বা কি করতে হবে?

  • যে সমস্ত মামলায় ইতিমধ্যে তদন্তের ভার সিবিআই নিয়ে ফেলেছে, সে সবের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হবে না। নতুন তদন্তের ক্ষেত্রেই একমাত্র রাজ্য সরকারের সম্মতি প্রয়োজন। নতুন মামলার ক্ষেত্রেও অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে মামলার নথিভুক্তিকরণ হবে না, দিল্লিতে নথিভুক্ত করিয়ে তদন্ত করতে হবে।

কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করা যায়?

  • দিল্লি স্পেশ্যাল পুলিশ এস্ট্যাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী সিবিআই গঠন করা হয়েছিল। এর প্রাথমিক কার্যের ব্যাপ্তি দিল্লি এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল গুলিতে রয়েছে। Delhi Special Police Establishment Act (DSPE) এর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কেন্দ্র সরকার এর প্রাথমিক কার্যের ব্যাপ্তি ও ক্ষমতা বিভিন্ন রাজ্য গুলিতে ও প্রয়োগ করতে পারে।
  • কিন্তু ৬ নম্বর ধারাতে এই ক্ষমতা কে একটু খর্ব ও করা হয়েছে। ৬ নম্বর ধারা তে বলা আছে, ৫ নম্বর ধারায় সিবিআই-এর উপরোক্ত যে সমস্ত অধিকারের কথা ব্যক্ত রয়েছে তার কোনোটিই রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়।  সুতরাং, ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনও রাজ্য চাইলে সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারে।

এর আগে কি কখনও কোন রাজ্য সিবিআই কে সাধারণ সম্মতি দিতে অস্বীকার করেছে?

  • সিবিআই -এর ওপর রাজ্য সরকারের সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এর আগেও যেসব রাজ্য নিয়েছিল – সিকিম, নাগাল্যান্ড, ছত্তিসগড় এবং কর্ণাটক। সাধারণত কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিবাদ এর অন্যতম প্রধান কারন।

এই প্রসঙ্গে সিবিআই সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।

  • সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (CBI)-
  • সংস্থার ধরন – ভারতের অন্যতম প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা হলোসেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআই।
  • বর্তমান Director– মান্নেম নাগেশ্বর রাও (২৪ শে অক্টোবর, ২০১৮ সাল থেকে)।
  • সদর দপ্তর দিল্লী ।
  • প্রতিষ্টিত হয় – ১৯৪১ সালে ।
  • Motto- Industry, Impartiality, Integrity

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − fourteen =

error:
Scroll to Top